লকডাউনে গ্রাম্য গির্জায় আশ্রয় এক অন্ধ মহিলার, সরকারি সাহায্যের আর্জি।

লকডাউনে গ্রাম্য গির্জায় আশ্রয় এক অন্ধ মহিলার, সরকারি সাহায্যের আর্জি। 



আজকের বার্তা, বালুরঘাট, ২১ এপ্রিল ঃ- লকডাউনে গ্রাম্য গির্জায় আশ্রয় এক অন্ধ মহিলার। নিজের আত্মীয়রা এলাকার বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য হওয়া সত্তেও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে অন্ধ মহিলার দিক থেকে। জয়ন্তী সোরেন নামের ওই বয়স্ক মহিলার খাবারের ব্যবস্থা করতে হিমশিম গরিব গ্রামবাসীর। লকডাউন এর কারণে বাড়ি ও ফিরতে পারছেন না ওই অন্ধ মহিলা। ফলে সরকারের কাছে সাহায্যের আর্তি জানিয়েছেন ওই অন্ধ মহিলা। পাশাপাশি গরিব গ্রামবাসীরাও বেশিদিন সাহায্য করতে না পারায়, তারাও চান, সরকার ওই মহিলার পাশে দাঁড়াক। বালুরঘাট থানার খরাইল এর কাছে বাঘবন্দি গ্রামের ঘটনা।


অপরদিকে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূল সভানেত্রী তথা রাজ্যসভার সংসদ অর্পিতা ঘোষ অসহায় মহিলার খবর পেয়ে জানান, আমরা মানুষের পাশে ছিলাম আছি। আমি এইমাত্র খবর পেলাম ওই মহিলার যাতে কোন অসুবিধা না হয় তা দেখার জন্য ভাটপাড়া অঞ্চলকে জানাবো। এই কঠিন পরিস্থিতিতে অসহায়ের সকলের পাশেই দাঁড়াবে তৃণমূল কংগ্রেস। এছাড়াও প্রশাসনকে বিষয়টি দেখার জন্য জানাবেন তিনি বলে জানিয়েছেন।


জানা গিয়েছে, বালুরঘাট থানার নক্সা গ্রামের বাসিন্দা জয়ন্তি সোরেন পুরোপুরি অন্ধ। লকডাউন এর আগেই তিনি বাঘ বন্দি গ্রামে দিদি জামাইবাবুর বাড়ি যান। দীর্ঘদিন লকডাউন এর কারণে ওই অন্ধ মহিলাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন তার দিদি জামাইবাবু বলে অভিযোগ। নিজের দিদির মেয়ে বুলবুলি বেসরা এলাকার বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য দ্বায়িত্ব এড়িয়ে যায়। লকডাউন শুরু হয়ে যাওয়ায় তিনি আর বাড়ি ফিরতে পারেননি। লকডাউনের কারণে কলকাতায় পড়াশোনা করা একমাত্র ছেলেও বাড়ি ফিরতে পারছে না। অন্ধ হ‌ওয়ায় এবং লকডাউনের কারণে তিনি বাড়ি ফিরতে না পারায়, ওই গ্রামেই থেকে যান। শেষ পর্যন্ত ঘুরতে ঘুরতে আশ্রয় মেলে আর এক হতদরিদ্র ছোটন হাঁসদার বাড়িতে। তিনি তাকে গ্রাম্য গির্জায় রাখার ব্যবস্থা করেছে। আদিবাসী দিন আনা দিন খাওয়া পরিবার সেখানে টানা একমাস আশ্রয় নিয়েছেন। নিজে চলতে পারেন না সবকিছুই পরনির্ভরশীল। লকডাউনের এই বাজারেও অতিরিক্ত একজনকে খাইয়েছেন টানা একমাস। তার পরিচর্যা করেছেন। কিন্তু দিন যত এগোচ্ছে ততই অভাব জাঁকিয়ে বসছে সংসারে। মাঠে-ঘাটে কাজ বন্ধ এখন আর খরচ চালাতে পারছেন না। সেই কারণেই সরকারি সাহায্যের আশায় দৃষ্টিহীন জয়ন্তি সরেন। আত্মীয়রা বাড়ি থেকে বার করে দিলেও আপন করে নিয়েছেন প্রতিবেশীরা। কিন্তু উপার্জনহীন হয়ে যাওয়ায় এখন আর দৈনন্দিন খাবার জোগাতে রীতিমতো বেগ পেতে হচ্ছে। ফলে সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছেন ওই মহিলার বাড়ি ফেরা এবং খাবার ব্যবস্থার সুবন্দোবস্ত করার। সরকারি সাহায্যের আশায় আদিবাসী এই পরিবারটি।

Comments

Popular Posts

চকভৃগু গ্রাম পঞ্চায়েতের ৭ টি আসন বালুরঘাট পৌরসভায় যুক্ত হওয়ায় বিজেপি পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের বোর্ড দখল নিল তৃণমূল।

বুনিয়াদপুরে বুথ ভিত্তিক কর্মীসভা করলেন মমতা